এক গভীর কাঠামোগত সংকটের চিত্র
বছরের পর বছর ধরে অলিম্পিক ব্যর্থতার সবচেয়ে সহজ অজুহাত ছিল—আমাদের টাকা নেই, আমরা গরিব দেশ। কিন্তু গত এক দশকের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই অজুহাতটি আর ধোপে টেকে না। সরকারি নথিপত্র বলছে, ক্রীড়া খাতে অর্থায়ন একেবারে স্থির নেই, বরং তা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে।
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ০৫:৪৮:৪০ পিএম
শেয়ার করুন:

আব্দুল্লাহ রাফসান জনি, ঢাকা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ অলিম্পিক। প্রতি চার বছর পর পর পৃথিবীর নানা প্রান্তের অ্যাথলেটরা জড়ো হন শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে। সেই ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশও এই মহারণের অংশীদার। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে শুরু করে প্যারিস—প্রতিটি গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকেই উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু চার দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় অর্জনের ঝুলিটি আজও শূন্য।
ভাবতে অবাক লাগে, ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশ, অথচ অলিম্পিকের মঞ্চে একটি পদকও জুটল না! এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল পদকহীন রাষ্ট্র হিসেবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
প্রতি গেমসে মাত্র ১ থেকে ৭ জন ক্রীড়াবিদের ক্ষুদ্র দল, তাও মূলত ওয়াইল্ড-কার্ড বা ইউনিভার্সাল স্লটের করুণায় অংশগ্রহণ আর এটাই যেন আমাদের অলিম্পিক ভাগ্য। টোকিও ২০২০-এ আর্চার রোমান সানার ১৭তম স্থান অর্জনকে যখন আমরা ‘সেরা সাফল্য’ বলে উদযাপন করি, তখন তা আসলে পদকের মঞ্চ থেকে আমাদের যোজন যোজন পিছিয়ে থাকার কারণকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
কেন এই ব্যর্থতা? কেন ১৮ কোটি মানুষের ভিড়ে একজন বিশ্বজয়ী তৈরি হয় না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসে এক গভীর কাঠামোগত সংকটের চিত্র।
‘টাকার স্বল্পতা’ একটি পুরনো ও অচল অজুহাত
বছরের পর বছর ধরে অলিম্পিক ব্যর্থতার সবচেয়ে সহজ অজুহাত ছিল—আমাদের টাকা নেই, আমরা গরিব দেশ। কিন্তু গত এক দশকের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই অজুহাতটি আর ধোপে টেকে না।
সরকারি নথিপত্র বলছে, ক্রীড়া খাতে অর্থায়ন একেবারে স্থির নেই, বরং তা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল মাত্র ২১৭.৫৫ কোটি টাকা, সেখানে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে এই বাজেট দাঁড়ায় প্রায় ১,৪৫২ কোটি টাকায়, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ১,৩০৯.৮৬ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে বিস্ময়কর ২,৪২৩ কোটি টাকা।
অর্থের প্রবাহ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন ফলাফল কেন শূন্যের কোঠায়? বাজেট বাড়ছে, কিন্তু পদক তো দূরের কথা, কোনো ইভেন্টের ফাইনালে ওঠা বা এমনকি শীর্ষ-৮ ফিনিশ করাও সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়টা একটি সোজা সাপ্টা প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, সমস্যাটা যদি টাকার অঙ্কে না হয় তবে সমস্যাটা ঠিক কোথায়?
কংক্রিটের প্রেমে অন্ধ ক্রীড়াঙ্গন: টাকা আসলে কোথায় যাচ্ছে?
সমস্যার মূল কারণটি টাকার পরিমাণে নয়, বরং টাকার ব্যবহারে নিহিত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশ্লেষণ এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রীড়া খাতে ব্যয়ের যে বিশাল উল্লম্ফন ঘটেছে, তার সিংহভাগই চলে গেছে অবকাঠামো উন্নয়নে সোজা কথায়, ইট-পাথর আর কংক্রিটের প্রকল্পে।
একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০২৪-২৫ বাজেটে ক্রীড়া খাতে ‘উন্নয়ন ব্যয়’ বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৫ শতাংশ, অথচ ‘পরিচালন ব্যয়’-এর প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬.১ শতাংশ। এর অর্থ কী? এর অর্থ হলো, সরকার স্টেডিয়াম বানানো, টার্ফ বসানো বা নতুন ভবন তৈরিতে যতটা আগ্রহী, ঠিক ততটাই উদাসীন ক্রীড়াবিদ তৈরির মূল উপাদানগুলোর প্রতি।
২০২৫-২৬ সালের প্রস্তাবিত ২,৪২৩ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের দিকে তাকালেও একই চিত্র দেখা যায়। এর মধ্যে প্রায় ১,৪৪০.৩৭ কোটি টাকাই (মোটের প্রায় ৫৯ শতাংশ) ধরা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় বা অবকাঠামোর জন্য।
অন্যদিকে, ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ, কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান, পুষ্টি, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্যালেন্ট স্কাউটিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘পরিচালন’ খাতে বরাদ্দ মাত্র ৯৮২.৬৩ কোটি টাকা (প্রায় ৪১ শতাংশ)।
যখন ফোকাস থাকে কেবল প্রজেক্ট বা প্রকল্পের ওপর, তখন ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন গৌণ হয়ে পড়ে। পদক তো আর স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে আসে না, আসে সঠিক প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা অ্যাথলেটের হাত ধরে। বাংলাদেশে ঠিক এই জায়গাটিতেই বড় ধরনের কৌশলগত ত্রুটি চোখে পড়ে।
খেলোয়াড়ের চেয়ে কর্মকর্তা বেশি: বিস্ময়কর অলিম্পিক যাত্রা
বাংলাদেশের অলিম্পিক মিশনগুলোর দিকে তাকালে ব্যবস্থাপনার একটি নগ্ন ও হাস্যকর চিত্র ফুটে ওঠে। অলিম্পিক গেমস কি ক্রীড়াবিদদের জন্য, নাকি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য? এই প্রশ্নটা বারবার সামনে আসে।
টোকিও ২০২০ অলিম্পিকের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৬ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন, অথচ মোট কন্টিনজেন্ট বা দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৮ জন! অর্থাৎ, প্রতি একজন খেলোয়াড়ের বিপরীতে দুইজন করে কর্মকর্তা (মোট ১২ জন অফিসিয়াল) গিয়েছিলেন। প্যারিস ২০২৪-এ চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি; ৫ জন ক্রীড়াবিদের বিপরীতে কন্টিনজেন্ট ছিল ১৩ জনের, যেখানে অফিসিয়াল ছিলেন ৮ জন।
এই ‘কন্টিনজেন্ট বনাম ক্রীড়াবিদ’ অনুপাতটি কেবল একটি সংখ্যার খেলা নয়; এটি আমাদের প্রাধান্যের প্রতিফলন। একটি দেশের অলিম্পিক ব্যবস্থাপনা যদি সত্যিই পারফরম্যান্স-চালিত হতো, তবে ‘অ্যাথলেট’ সংখ্যাটিই বড় হতো, ‘অফিসিয়াল’ নয়। কিন্তু বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে এর উল্টোটা দেখা যায়, যা পুরো ব্যবস্থার দক্ষতা ও উদ্দেশ্য নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আস্থার সংকট
এর সঙ্গে যুক্ত হয় ক্রীড়া প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো নিয়ে রাজনীতিকরণ, অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিওএ-এর নেতৃত্ব ঘিরে তদন্তের দাবি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে পদক্ষেপ চাওয়ার মতো খবরও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সব অভিযোগ বিচারিকভাবে প্রমাণিত হোক বা না হোক, ক্রীড়া প্রশাসন যখন টানা সন্দেহের মেঘে ঢাকা থাকে, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব মাঠে পড়তে বাধ্য।
প্রশাসন জবাবদিহিমূলক না হলে বিশাল বাজেটও কার্যকরভাবে ক্রীড়াবিদদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। টাকা বাড়লেও তা উন্নত মানের কোচ, আধুনিক ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম, আন্তর্জাতিক এক্সপোজার বা স্পোর্টস সায়েন্সে রূপান্তরিত হয় না; বরং মাঝপথে অপচয় বা লোপাট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
পাইপলাইন শূন্য: কোথা থেকে আসবে নতুন প্রতিভা?
অলিম্পিক পদক কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি যুব উন্নয়নের ফসল। স্কুল, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞানসম্মত স্কাউটিং এবং নিরবচ্ছিন্ন কোচিং-এর মাধ্যমেই তৈরি হয় ভবিষ্যতের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘ট্যালেন্ট পাইপলাইন’।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে বহু বছর ধরে এই পাইপলাইনটি অত্যন্ত দুর্বল, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় অনুপস্থিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা পুনরুজ্জীবনের মতো কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে, কিন্তু সেগুলো এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এবং সারা দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।
ফলে, বিশাল জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রতিভা ধারাবাহিকভাবে তৈরি হচ্ছে না। অলিম্পিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ সংখ্যাই বলে দেয় আমাদের পাইপলাইন কতটা দুর্বল। এত বড় দেশে মাত্র ৫-৭ জন অলিম্পিয়ান থাকার মানে হলো, প্রতি মিলিয়নে ক্রীড়াবিদের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
ক্রিকেটের বিশাল ছায়া এবং অন্যান্য খেলার ভঙ্গুর দশা
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাধাগুলোর একটি হলো ক্রিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য। ক্রিকেট এখন আর শুধু খেলা নয়, এটি একটি আবেগের নাম। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে মিডিয়া কভারেজ, বিশাল স্পনসরশিপ এবং সামাজিক মর্যাদা সবই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করেই নিজস্ব আয়ের এক বিশাল কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের ঠিক নিচেই রয়েছে অন্য খেলাগুলোর করুণ দশা। দর্শক নেই, স্পনসর নেই, সামাজিক কোনো জৌলুস নেই।
ফলে অলিম্পিক ধরনের খেলাগুলোতে প্রতিশ্রুতিশীল ট্যালেন্ট ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিবারগুলোও খেলাধুলাকে (ক্রিকেট বাদে) পেশা হিসেবে নিতে সন্তানদের নিরুৎসাহিত করে; তারা বরং নিরাপদ চাকরি ও একাডেমিক পথকেই অগ্রাধিকার দেয়।
এ ছাড়া, ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে সামাজিক বাধা এবং সুযোগ-সুবিধার তীব্র ঘাটতি আমাদের ট্যালেন্ট পুলকে আরও সংকুচিত করে ফেলে। ফলে সম্ভাব্য প্রতিভার অর্ধেকই শুরুতেই ঝরে পড়ে।
অন্যরা পারলে আমরা কেন পারি না?
আমাদের ব্যর্থতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন আমরা সমসাময়িক বা তুলনামূলক ছোট দেশগুলোর দিকে তাকাই। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কাও অলিম্পিকের মঞ্চে পদক জিতেছে।
পরিসংখ্যান বলছে—ভিয়েতনামের পদক সংখ্যা ৫ (যার মধ্যে ১টি স্বর্ণ), ইন্দোনেশিয়ার ৪০, কেনিয়ার ১২৪, এবং শ্রীলঙ্কারও ২টি পদক রয়েছে। অথচ বাংলাদেশের প্রাপ্তি শূন্য।
এই দেশগুলো কি আমাদের চেয়ে খুব বেশি ধনী? না। তারা শুধু টাকা ঢালেনি, তারা একটি কার্যকর ‘সিস্টেম’ বা তন্ত্র গড়ে তুলেছে। তারা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সব খেলায় না ছড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু পদক-সম্ভাব্য খেলায় বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূত করেছে, যুব উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রোগ্রাম চালিয়েছে, কোচিং ও ক্রীড়া বিজ্ঞানকে আধুনিক করেছে এবং সর্বোপরি ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার নিরাপত্তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করেছে।
মূল পার্থক্যটা ডলারের পরিমাণে নয়; পার্থক্য হলো তারা ‘ডলারকে ফলাফলে বদলানোর কাজটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে করতে পেরেছে, যা বাংলাদেশ পারেনি।
প্রয়োজন কার্যকারী রোডম্যাপ
সব মিলিয়ে, অলিম্পিকে বাংলাদেশের এই দীর্ঘ শূন্যতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল। বাজেট বৃদ্ধি হলেও তা ক্রীড়াবিদ-কেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়নি; প্রশাসন জবাবদিহিমূলক নয়; ট্যালেন্ট পাইপলাইন ভাঙা; ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলার ইকোসিস্টেম মৃতপ্রায়; এবং নারীর অংশগ্রহণ নগণ্য।
এই অবস্থার পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ১৫ থেকে ২০ বছরের একটি বাস্তবসম্মত ও কঠোর রোডম্যাপ। এই রোডম্যাপে কেবল নতুন স্টেডিয়াম প্রকল্পের ঘোষণা থাকলে চলবে না। ফোকাস করতে হবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদক-সম্ভাব্য খেলার ওপর যার পর্যাপ্ত ট্যালেন্ট বাংলাদেশেন আছে। স্কুল ও জেলা পর্যায়ে স্কাউটিং ও প্রতিযোগিতাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
গড়ে তুলতে হবে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞান ও কোচিং কাঠামো। ফেডারেশনগুলোর ফান্ডিংকে অডিট ও পারফরম্যান্স সূচকের সঙ্গে কঠোরভাবে বেঁধে দিতে হবে। এবং সবচেয়ে জরুরি ক্রীড়াবিদদের স্কলারশিপ ও ক্যারিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায়, প্রতি বছর বাজেটের আকার যতই বাড়ুক না কেন, বাংলাদেশের অলিম্পিক গল্পটি সেই একই বৃত্তে ঘুরপাক খাবে। বিশাল জনসংখ্যা, বড় বড় দাবি, আর দিনশেষে ফলাফল বিগ জিরো।
নবোদয়/ এআরজে/ এসআইআর/ জেডআরসি/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬