➤ বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
রায়ে নিরুৎসাহিত নন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট তাকে বৈশ্বিক শুল্ক চালু রাখার আইনি ভিত্তি দেয়।
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ০২:১১:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:

নবোদয় ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক বাতিলের রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প এই রায়কে ‘জাতির জন্য লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে তিনি বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখবেন।
আল-জাজিরা জানায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালত ‘বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আদালতের উদারপন্থি বিচারপতিদের ‘জাতির জন্য লজ্জা’ ও তাদের সঙ্গে একমত হওয়া রক্ষণশীল বিচারপতিদের ‘সংবিধানের প্রতি অবিশ্বস্ত ও দেশপ্রেমহীন’ বলে মন্তব্য করেন।
তবে রায়ে নিরুৎসাহিত নন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট তাকে বৈশ্বিক শুল্ক চালু রাখার আইনি ভিত্তি দেয়।
আইনের ভিত্তি বদল
শুক্রবারের (২০ ফেব্রুয়ারি) ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই ক্ষমতা খারিজ করে দেয়, যার মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করছিলেন। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতে।
➤ ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে
তিনজন উদারপন্থি ও তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি এই রায়ের পক্ষে থাকেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, আইইইপিএ নয়, বরং ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট অব ১৯৬২ ব্যবহার করে তিনি ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করবেন। আদালত যে শুল্কগুলো বাতিল করেছে, তার কিছু এই নতুন ব্যবস্থায় আরোপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতে শুল্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমাদের দেশে বিপুল অর্থ আসবে। প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ করে আমরা ন্যায্য শুল্ক অথবা সাধারণভাবে শুল্ক আরোপ করব।
রাজস্ব ও অর্থনৈতিক প্রভাব
নতুন ১০ শতাংশ শুল্কটি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান সেক্টরভিত্তিক শুল্কের ওপর অতিরিক্তভাবে বসবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিন দিনের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রাম্পের শুল্কনীতি প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনতে পারত।
তবে আদালতের রায়ের পর কার্যকর শুল্কহার তাৎক্ষণিকভাবে ১২.৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড ইয়ারোস।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি রাজস্ব আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প আইন ব্যবহার করে দ্রুত ও ব্যাপক শুল্ক আরোপ করা সহজ হবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠনা সেন্টার ফর এ নিউ আমেরকিান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা আল জাজিরাকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় বাধা। দ্রুত শুল্ক ঘোষণা ও বাস্তবায়ন এখন আরও কঠিন হবে।
একই মত দিয়েছেন পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের গবেষক কিম্বার্লি ক্লজিং। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের ফলে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ প্রয়োগের শক্তি কমে গেছে। বিদেশি সরকার ও মার্কিন ব্যবসাগুলো এখন কিছুটা হলেও কম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
তবে তিনি সতর্ক করেন, ট্রাম্প অন্য আইনি উপায় খুঁজে নেওয়ার পরিকল্পনা করায় মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসার অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।
শুল্ককে কূটনৈতিক হাতিয়ার
গত এক বছরে ট্রাম্প রাজস্ব বৃদ্ধি ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও শুল্ক ব্যবহার করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে তিনি ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ দণ্ডমূলক শুল্ক আরোপ করেন।
আইইইপিএ বাতিল হওয়ায় ভবিষ্যতে তিনি নিষেধাজ্ঞা বা এমনকি সামরিক পদক্ষেপের মতো অন্যান্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপের পথেও বেশি নির্ভর করতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
র্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তিনি আগেও সামরিক শক্তি ব্যবহার করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি বন্ধু-শত্রু সবার ওপর চাপ বাড়াতে চান কি না। তার ‘চাপ বাড়িয়ে পরে কমানো’ কৌশলেরও একটি মূল্য আছে।
নবোদয়/ জেডআরসি/ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬