পুরো বিশ্ব বিভক্ত, কিন্তু বুঝেশুনে কথা বলছে সবাই
রাশিয়া তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ঠিকই কিন্তু সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেনি। চীন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে চীনের গোয়েন্দা জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে অনুসরণ করছে এবং ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ০৭:২৯:৪৭ পিএম
শেয়ার করুন:

রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সবচেয়ে জোরালো ভাষায় কথা বলেছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইরান পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ পরিত্যাগের প্রতিটি সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্র আর সহ্য করতে পারছে না।
তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে এবং নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের অস্ত্র রেখে দিতে বললে সম্পূর্ণ অভয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, না হলে নিশ্চিত মৃত্যুর হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের সরকার দখলে নাও, এটা তোমাদেরই।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরায়েলও একই সুরে কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যৌথ অভিযান যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে। তিনি বলেন, এই হত্যাকারী সন্ত্রাসী শাসনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্র হতে দেওয়া যাবে না। তিনি ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, এই অভিযান তাদের ‘নিজের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ দেবে।
এদিকে, ইরান পাল্টা হামলা শুরু করার পাশাপাশি কথায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার চূর্ণকারী জবাব দেবে। ইরান আগেই প্রতিবেশি দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে, তারাও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
➤ ইরানে যৌথ হামলা শুরু ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের
রাশিয়া তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ঠিকই কিন্তু সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেনি। মস্কো এই হামলাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
চীন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে চীনের গোয়েন্দা জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে অনুসরণ করছে এবং ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরাই এখন হামলার শিকার হয়ে আতঙ্কে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় দফা ইরানি হামলা আটকে দিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। কাতার দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে বলে জানিয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল জানিয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এরবিলের উপর দিয়ে উড়তে থাকা কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে আটকে দিয়েছে। কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সদর দফতরে ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এ-ও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তারা ইরানকে সমর্থন দেবে।
ওমান সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মধ্যস্থতা করছিলেন, বলেছিলেন দুই পক্ষ সর্বশেষ দফায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে। এরপরই বোমা পড়ল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক অবস্থানে আছে। ইইউ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট ‘একটি বিপজ্জনক পারমাণবিক বিস্তার’ ঘটাতে পারে। ইইউ আগেই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
যুক্তরাজ্য হামলায় সরাসরি অংশ নেয়নি। ট্রাম্প তাদের বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু লন্ডন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সারকথা হলো, যারা হামলার পক্ষে তারা জোরালো কথা বলছে, আর যারা বিপক্ষে তারা নিন্দা জানাচ্ছে কিন্তু সামরিকভাবে কেউই ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। পুরো বিশ্ব বিভক্ত, কিন্তু প্রত্যেকে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে মুখ খুলছে।
নবোদয়/ আরআই/ জেডআরসি/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬