তেহরানে বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা জারি
ইরান ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশ্বের একটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। হরমুজ প্রণালি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল চলাচল করে, তা ইরানের নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি। এই হামলার ফলে তেলের মূল্য ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ০২:৩৪:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:

রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যা ইসরায়েল প্রিঅ্যাম্পটিভ স্ট্রাইক বা পূর্বনির্ধারিত হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করছে, তা শুরু করেছে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ শোনা গেছে এবং ইসরায়েলজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। সারাদেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর আগেই ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা প্রিঅ্যাম্পটিভ স্ট্রাইক চালিয়েছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাগুলো মোটেও ছোট নয়, এগুলো উল্লেখযোগ্য। ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তেহরানের কিছু এলাকায় মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হামলার ঘোষণা দিয়ে জানান, এটি ইসরায়েলের প্রতি হুমকি দূর করতে পরিচালিত হয়েছে। প্রথম আঘাত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের কাছে বলে জানা গেছে। তেহরানের ডাউনটাউনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এই হামলার ফলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অত্যাসন্ন। সেনাবাহিনী নাগরিকদের বোমা নিরোধক আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সতর্ক করেছে। ইসরায়েল তার আকাশসীমা যাত্রীবাহী বিমানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।
২৩ জানুয়ারি ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন আরমাডা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও বেশ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। এরপর দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর. ফোর্ডও মোতায়েন করা হয়।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী টেকসই অভিযানের জন্য প্রস্তুত, যা শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা কাঠামোকেও লক্ষ্য করতে পারে।
মাত্র দুদিন আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অনীহা একটি বিশাল সমস্যা।
মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইরানের কাছে তিনটি মূল দাবি উপস্থাপন করেছিলেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে কঠোর বিধিনিষেধ এবং হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ। ইরান এসব দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি টুইটারে লিখেছেন, আমরা সতর্ক করেছিলাম! এখন তুমি এমন একটি পথে পা বাড়িয়েছ যার শেষ আর তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই। একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পাল্টা হামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এটি হবে চূর্ণকারী। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ আছেন।
কাতারের মার্কিন দূতাবাস সকল কর্মীদের জন্য শেল্টার-ইন-প্লেস (আশ্রয়ে অবস্থান) নির্দেশ জারি করেছে। বাহরাইনের দূতাবাসও একই ব্যবস্থা নিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের মজুদ রাখতে বলা হয়েছে।
ইরান ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশ্বের একটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। হরমুজ প্রণালি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল চলাচল করে, তা ইরানের নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি। এই হামলার ফলে তেলের মূল্য ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
এই মুহূর্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের পরও একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে।
নবোদয়/ আরআই/ জেডআরসি/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬