গাজা থেকে ক্রিকেট মাঠ
- গাজায় শান্তি ফেরাতে সেনা পাঠাতে চায় ঢাকা, তবে কাজের ধরণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
- আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আবারও আলোচনায় বাংলাদেশের নাম।
- ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি, কিন্তু আইসিসি বলছে ‘সব ঠিক আছে’।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৬:৪৮ এএম
শেয়ার করুন:

আদিত্য আজাদ, ঢাকা
(১৩
জানুয়ারি, ২০২৬ : বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ)
গত
২৪ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ একাধিক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে
উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে গাজা পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী ভূমিকা, ইউরোপে রোহিঙ্গা
গণহত্যার বিচার এবং ভারতে অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ—এই
তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্ব রাজনীতির স্পটলাইটে এনে দিয়েছে।
গাজায়
শান্তিরক্ষী পাঠানোর আগ্রহ
বার্তা
সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সেখানে জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি
স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ওই বাহিনীতে অংশ নিতে
আগ্রহের কথা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের জানিয়েছে। তবে ঢাকা এখনো সেখানে নিজেদের ভূমিকার
ধরন ও পরিসর চূড়ান্ত করেনি।
আন্তর্জাতিক
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক অবস্থানকে সামনে
আনার একটি উদ্যোগ হলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা রয়ে
গেছে।
রোহিঙ্গা
গণহত্যার বিচার: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে
ইউরোপীয়
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা এপি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে চলমান শুনানির খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।
২০১৬–১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ফলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়
নিতে বাধ্য হন।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই মানবিক সংকটের বড় অংশের ভার বাংলাদেশ বহন করছে।
আদালতের এই শুনানি শুধু মিয়ানমারের জবাবদিহিতার প্রশ্নই নয়, বরং বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থীদের
ভবিষ্যৎ নিয়েও আন্তর্জাতিক আগ্রহ নতুন করে জাগিয়েছে।
ক্রিকেট
ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এদিকে
খেলাধুলার অঙ্গনেও বাংলাদেশ আলোচনায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান ট্রিবিউন ও টাইমস
অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর নিয়ে
নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
দলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আশঙ্কা করছে এবং ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরানোর অনুরোধ জানানো
হয়েছে।
তবে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পূর্বনির্ধারিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান
নিয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কূটনৈতিক আলোচনার রূপ নিচ্ছে।
বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক অবস্থান
একই
দিনে এই তিনটি ভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় উঠে আসায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বাংলাদেশের
ভূমিকাকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। গাজায় শান্তিরক্ষী হিসেবে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ, রোহিঙ্গা
সংকটে ভুক্তভোগী ও আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে অবস্থান এবং ক্রিকেট কূটনীতিতে নিরাপত্তা নিয়ে
উদ্বেগ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ২০২৬ সাল যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যস্ত হতে
যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নবোদয়/ এএ/ জেডআরসি/ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬