‘প্রোপাগান্ডা’ বনাম ‘নতুন পাকিস্তান’ তত্ত্ব—সরগরম আঞ্চলিক রাজনীতি
-মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার ঐতিহাসিক শুনানি শুরু আন্তর্জাতিক আদালতে; নজরে বাংলাদেশ।
-সীমান্তে ‘আরসা’র ৫৩ সদস্য আটক, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ঢাকা।
-খবরের ভিড়ে মুন্সিগঞ্জের মৌমাছি আর মধু—চীনা গণমাধ্যমে একটু ‘মিষ্টি’ বিরতি।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৭:৩১ এএম
শেয়ার করুন:

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ : বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হওয়ায় বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর এখন বাংলাদেশমুখী। একই সময়ে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক আলোচনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি: বাংলাদেশের ভূমিকা
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে এই মামলা আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আদালতে চলমান শুনানির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশে আশ্রিত লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থী, যাঁরা সহিংসতার শিকার হয়ে দেশ ছেড়েছেন।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা বলছে, এই শুনানি রোহিঙ্গাদের জন্য শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ন্যায়বিচারের শেষ ভরসা। অন্যদিকে সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট বাংলাদেশকে এই প্রক্রিয়ার ‘প্রধান অংশীজন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে—যা ঢাকা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সীমান্তে আরসার তৎপরতা
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা)-এর ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নির্বাচনের এক মাস আগে এমন তৎপরতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতি—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়াতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
নির্বাচন ও আঞ্চলিক রাজনীতি
ভারতের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে আসছে নির্বাচন ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবরগুলো সরকার ‘অপপ্রচার’ বলে মনে করছে। সরকারের দাবি, নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব খবর ছড়ানো হচ্ছে।
তবে Scroll.in ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে ‘নতুন পাকিস্তান’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রার টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে জনমত ও খেলাধুলার মতো ক্ষেত্রেও।
রাজনীতির বাইরে ‘মিষ্টি’ খবর
ভারী রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংবাদের ভিড়ে কিছুটা ভিন্ন স্বাদের প্রতিবেদন এনেছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। তারা মুন্সিগঞ্জের মৌমাছি চাষিদের নিয়ে একটি আলোকচিত্রভিত্তিক ফিচার প্রকাশ করেছে। সেখানে গ্রামীণ চাষিদের মধু সংগ্রহের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে—রাজনীতির বাইরে বাংলাদেশের একটি শান্ত ও উৎপাদনমুখী চিত্র।
সামগ্রিক চিত্র
সব মিলিয়ে ১২ জানুয়ারি বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে হেগে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার, অন্যদিকে সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নির্বাচনের আগে আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। এর মধ্যেই মুন্সিগঞ্জের মধু চাষিদের গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়, নানা সংকটের মাঝেও দেশের স্বাভাবিক জীবন ও উৎপাদন থেমে নেই।
নবোদয়/ এএ/ জেডআরসি/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬