গাজায় সেনা পাঠাতে 'নীতিগত' সম্মতি ঢাকার
গাজা মিশনে আগ্রহী: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে গাজায় জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দিতে রাজি বাংলাদেশ।
ক্রিকেটে রাজনীতির প্যাঁচ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভেন্যু ও ভারতীয় লিগ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ক্রীড়াঙ্গন।
স্পন্সর স্থগিত: কূটনৈতিক টানাপোড়েনে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের স্পন্সরশিপ থামিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি এসজি।
চাপে ক্রিকেটাররা: মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৭:২১ এএম
শেয়ার করুন:

আদিত্য আজাদ, ঢাকা
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ : বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রয়টার্স ও স্ট্রেইটস টাইমসের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মার্কিন কূটনীতিকদের জানিয়েছেন যে, গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ অনুমোদিত কোনো 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' বা ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স গঠিত হলে তাতে যোগ দিতে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে আগ্রহী।
আরব নিউজ ও এশিয়াওয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি বহুজাতিক জোট চাইছে এবং বাংলাদেশ সেখানে নিজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। তবে ঠিক কতজন সেনা বা পুলিশ পাঠানো হবে, বা তাদের কাজ কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি মূলত বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের একটি 'কৌশলগত অবস্থান' তৈরির চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গাজায় মারামারি থামলে সেখানে যেন আবার ক্যাচাল না লাগে, সেজন্য পুলিশ বা পাহারাদার হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে লোক নেওয়া হবে। আমেরিকা জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ এতে থাকবে কি না। ঢাকা বলে দিয়েছে, "জাতিসংঘ বললে আমরা আছি।" অর্থাৎ, দেশের বাইরে শান্তিরক্ষায় আমরা যে ওস্তাদ, সেটা আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হলো।
তবে ঘরের বাইরে শান্তির বার্তা দিলেও, ঘরের কাছের প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক এখন রীতিমতো 'লুডু খেলার সাপের মুখে'। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার সরাসরি আঘাত করেছে ক্রিকেটে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ক্রিকেট এখন আর নিছক খেলা নয়, বরং একটি 'কূটনৈতিক অস্ত্র' বা লিভারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সামনেই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাইছে তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে নেওয়া হোক। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভেন্যু সরানোর সিদ্ধান্ত তাদের হাতে নেই, এটি সম্পূর্ণ তাদের সরকার ও আইসিসির বিষয়। অর্থাৎ, বল এখন রাজনীতির কোর্টে।
সমস্যা আরও গভীরে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেট সরঞ্জাম কোম্পানি 'এসজি' বাংলাদেশি টপ প্লেয়ারদের স্পন্সরশিপ আপাতত স্থগিত বা 'পজ' করে দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের বরফ না গলা পর্যন্ত বাংলাদেশি তারকাদের ব্যাটে হয়তো ভারতীয় টাকার স্টিকার আর দেখা যাবে না।
আল জাজিরায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি দলের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। খেলোয়াড়রা এখন প্রতিপক্ষের ইয়র্কার সামলাবেন নাকি ভেন্যু আর ভিসার টেনশন করবেন—তা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন। বিশ্বকাপের আগে এমন অস্থিরতা দলের প্রস্তুতির বারোটা বাজাচ্ছে।
দিনশেষে ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে। আমরা সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গাজার নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বর্ডার পার হয়ে কলকাতায় গিয়ে ক্রিকেট খেলার নিরাপত্তা পাচ্ছি না। বিশ্বমঞ্চে আমরা 'পিসকিপার' বা শান্তিরক্ষী, আর প্রতিবেশীর কাছে আমরা শুধুই 'সমস্যা'। গাজার রাস্তাঘাট ঠিক করার প্ল্যান করা হচ্ছে, অথচ নিজেদের বিশ্বকাপের ফিক্সচারটাই এখনো ঝুলে আছে রাজনীতির সুতোয়।
নবোদয়/ এএ/ জেডআরসি/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬