বিজ্ঞানীরাও হতবাক
পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ। আমরা এখানে কূপ খনন, নদী দখল আর বর্ষার পানিতে ভাসতে ব্যস্ত থাকলেও, মহাকাশে পানি সরাসরি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে হয়।
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ১২:৪৯:২২ পিএম
শেয়ার করুন:

আব্দুল্লাহ রাফসান জনি, ঢাকা
পৃথিবীর বাইরে কোথাও পানি আছে শুনলেই আমরা উচ্ছ্বসিত হই। কারণ আমরা নিজেরাই ভাবে নেই, পানি মানেই জীবন, আর জীবন মানেই -আমরা। কিন্তু দুঃসংবাদ হলো, মহাবিশ্ব আমাদের ধারণা নিয়ে হাসছে। কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন এক কোয়েসার, যার চারপাশে রয়েছে এত পানি যে পৃথিবীর মতো ট্রিলিয়ন গ্রহ পানি দিয়ে ভরে ফেলা যাবে। নাম তার APM 08279+5255 ...
এই কোয়েসারের মাঝখানে রয়েছে এক সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল। এটি গ্যাস গিলে গিলে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে পুরো সিস্টেমটাই আলো ছড়াতে ছড়াতে উত্তপ্ত হয়ে আছে। সেই আলো বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা বের করেছেন পানি বাষ্পের এই অবিশ্বাস্য ভাণ্ডারের হিসাব।
পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ। আমরা এখানে কূপ খনন, নদী দখল আর বর্ষার পানিতে ভাসতে ব্যস্ত থাকলেও, মহাকাশে পানি সরাসরি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে হয়।
আরও মজার ব্যাপার হলো, এই বস্তুটি ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। মানে আমরা এখন যা দেখছি, সেটি ঘটেছিল যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল কেবল কয়েক বিলিয়ন বছর, তখনই এত পানি জমে বসেছিল ব্ল্যাক হোলের আশেপাশে। আমাদের ধারণা ছিল, মহাবিশ্বের শুরুতে জটিল পানি অণু এভাবে তৈরি হতে পারে না। আর এখন? তাত্ত্বিকরা মাথায় হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছেন।
এত দূরের কোনো বস্তু যদি এত উজ্জ্বল দেখায়, বিজ্ঞানীরা প্রথমে সন্দেহ করেন। পরে দেখা যায়, মাঝপথে থাকা আরেকটি গ্যালাক্সির মহাকর্ষ এর আলোকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং নামের এই প্রক্রিয়াটাকে সহজ বাংলায় বললে দাঁড়ায়, “মহাকাশ নিজের টর্চলাইট লাগিয়ে দিয়েছে”।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে যে মহাবিশ্ব তার শুরুর দিনগুলোতেও মোটেও শান্ত-শিষ্ট ছিল না। পানি, ধুলা, নক্ষত্র সবই উৎপাদিত হচ্ছিল দ্রুতগতিতে। আমাদের ধারণার তুলনায় মহাবিশ্ব অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প দিয়ে শুরু করেছিল।
আমরা যতই ভাবি আমরা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, মহাবিশ্ব মাঝে মাঝে এমন তথ্য ছুড়ে দেয় যাতে বুঝি, আমাদের গুরুত্ব তার চোখে বালির দানার মতোও না। তবুও বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে, আর আমরা অন্তত বুঝতে পারছি, পানি খোঁজার গল্পটা শুধু পৃথিবী ঘিরে আটকে নেই।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬