বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:২৫:২৫ এএম
শেয়ার করুন:
মাদুরোর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? কীভাবে পরিচালিত হলো ডেল্টা ফোর্সের অভিযান? কী বলছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতারা? কী ঘটতে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলায়? কী বার্তা পেলো চীন, রাশিয়া ও ইরান? বিবিসি, আল জাজিরা, এপি ও আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণ অবলম্বনে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজেছেন-আদিত্য আজাদ
কোথায় আছেন মাদুরো:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) ভোররাতে কারাকাস থেকে আটকের পর মাদুরোকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দুহাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়।
রাতেই মাদুরোকে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে তাকে ব্রুকলিনের ওই আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তবে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এখন কোথায় আছেন সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এটি নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল কারাগার। হাইপ্রোফাইল মামলার আসামিদের আটক রাখার জন্য কারাগারটি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের অন্যতম সহযোগী ঘিসলেন নোয়েল মারিয়ন ম্যাক্সওয়েলকে এখানেই আটক রাখা হয়েছে।
মার্কিন সংগীত তারকা ও প্রযোজক শন জন কম্বস’ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এই কারাগারে বন্দী। তবে বন্দীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কারাগারটির কুখ্যাতি রয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটনের আদালতে মাদক ও অস্ত্র আইনে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর কথা রয়েছে হবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালত ভাইস–প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যাতে ‘প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও জাতির সার্বিক প্রতিরক্ষা’ নিশ্চিত করা যায়। তিনি জরুরী অবস্থা জারি করেছেন। দেশজুড়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের পরিস্থিতি কার্যত থমথমে-সুনশান।
শনিবারের (০৩ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভাষায় বলেছেন, বৈধ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলাকে চালাবে। যতক্ষণ না সেখানে ‘নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ রূপান্তর’ সম্ভব হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ‘ভাঙাচোরা অবকাঠামো’ ঠিক করবে। দেশটির জন্য আয়ের পথ তৈরি করবে।’
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যত নির্মাণের পথটা ‘মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো’র হাতে দিচ্ছেন ট্রাম্প। যা এই অভিযোগকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক বা ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের চাইতে বরং দেশটির তেল সম্পদ নিয়েই তিনি আগ্রহী।
শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তুলে আনে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স। এই একই ইউনিট ২০১৯ সালে আইএস জঙ্গিদের আত্মস্বীকৃত খলিমা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার অভিযানে যুক্ত ছিল।
ডেল্টা ফোর্সের অপারেশন ‘অ্যাবসোলিউট রিজলভ’:
মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্সের অভিযানটির নাম ছিলো অপারেশন ‘অ্যাবসোলিউট রিজলভ’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবুজ সঙ্কেত পাবার পর গেলো কয়েকমাস ধরে এই অভিানের পরিকল্পনা করে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, স্থল, নৌ, মহাকাশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা কয়েক মাস ধরে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ৩ জানুয়ারি গ্রিনিচ মান সময় রাত ০৩:৪৬ মিনিটে ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত অভিযানের অনুমোদন দেন
- তখনই অভিযানের উদ্দেশ্যে পশ্চিম গোলার্ধের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন ঘাঁটি থেকে প্রায় ১৫০টি বিমান ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়
- ৩ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ০২:০১ মিনিটে হেলিকপ্টার ও স্থল বাহিনী নিয়ে গঠিত ডেল্টো ফোর্সের একটি দল কারাকাসে মাদুরোর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়।
- এ সময় আকাশপথে নিরাপত্তা প্রহরায় ছিলো F-22, F-35, F/A-18, EA-18, E-2 বিমান, B-1 বোমারু বিমান ও অসংখ্য ড্রোন।
- তবে কারাকাসের আকাশে গুলির মুখে পড়ে হেলিকপ্টারগুলো। এ সময় একটি হেলিকপ্টার আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
- ভোর রাতেই নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিয়ে USS আইও জিমা জাহাজে ওঠেন ডেল্টা ফোর্স সদস্যরা।
- স্থানীয় সময় রাত ২ টায় কারাকাসে বিমান হামলা শুরুর ৩ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে মাদুরোকে নিয়ে মার্কিন জাহাজে পৌছায় ডেল্টা ফোর্স।
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে এই পুরো অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেমনটা লাদেনকে হত্যার অভিযান হোয়াইট হাউসে বসেই দেখেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
মাদুরোর বিরুদ্ধে আদালতে যেসব অভিযোগ:
বার্তা সংস্থা এপি বলছে, দুর্নীতিপূর্ণ অবৈধ সরকার পরিচালনা ও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এক পোস্টে বলেছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী শীঘ্রই মার্কিন ন্যায়বিচারের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হবেন, মার্কিন মাটিতে এবং মার্কিন আদালতে।
তবে মামলার আসামি হতে পারেন মাদুরোর ছেলেসহ আরও তিনজন। দুর্নীতি ও মাদক ছাড়াও নার্কো সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিন গান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগও আনা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত: ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই ম্যানহাটন ফেডারাল কোর্টে মাদুরো’র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। নতুন করে মাদুরোর স্ত্রীকেও এই অভিযোগে আসামী করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘মাদুরো বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও প্রসিদ্ধ মাদক চোরাকারবারি এবং নার্কো-সন্ত্রাসীদের মদত দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার মাদক চক্র সিনালোয়া কার্টেল ও ট্রেন দে অরাগুয়া’কে সুরক্ষা দিয়েছেন মাদুরো ও তার সরকার। এই মদতেই ২০২০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫০ টন কোকেন পাচার হয়। মাদুরোর স্ত্রী ২০০৭ সালে একজন মাদক চোরাকারবারি ও ভেনেজুয়েলার জাতীয় মাদক বিরোধী দপ্তরের পরিচালকের মাধ্যমে কয়েক লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণ করেন। এই ঘুষের বিনিময়ে তারা অবাধে মাদক পাচারের সুবিধা পান।’
কী বলছেন বিশ্ব নেতারা:
জাতিসংঘ: যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায কাণ্ডে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে মহাসচিবের মুখপাত্র জানান এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হতে পারে। মাদুরোকে আটকে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা হয়নি উল্লেখ করে সব পক্ষকে জাতিসংঘ সংবিধানের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রাখার আহবান জানান তিনি।
সেই সাথে ভেনেজুয়েলাকেও মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি সম্মান রেখে সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত: সোমবার চীন ও রাশিয়ার সমর্থনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
রাশিয়া: রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে এবং একটি সার্বভৌম দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ দরকার বলে মনে করছে।
চীন: মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তাদের গ্রেপ্তারকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি ও জাতিসংঘ সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনও আলোচনা ও সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে।
জাপান: জি–৭ দেশের সদস্য হিসেবে জাপান ‘ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়া: কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বলছে, ‘অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও শক্তি প্রয়োগ করার বিরোধিতা মালয়েশিয়া।
অস্ট্রেলিয়া: সকল পক্ষকে সংলাপের প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনেস জানান, তাঁর সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আরও উত্তেজনা এড়াতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহবান জানান তিনি। সেই সাথে ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করার মতো গণতান্ত্রিক উত্তরণ আশা করে অস্ট্রেলিয়া।
ব্রাজিল: যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বলেছেন, মাদুরোর শাসন অবসান নিয়ে তাঁর সরকার কোনো দুঃখ প্রকাশ করবে না। তবে সামরিক এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন স্টার্মার।
কী ঘটবে ভেনেজুয়েলায়?
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণ বলছে-
প্রথমত: এটি ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত। এটি মূলত ভেনেজুয়েলার শাসক পরিবর্তনের প্রচেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করতে ইচ্ছুক নয়; যতক্ষণ না সেখানে নিরাপদ শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়। এর অর্থ হলো ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সহজে ক্ষমতা নিতে পারছে না এবং তাঁর নীতিও কার্যকর থাকছে না। সাংবিধানিকভাবেই আগামি ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের এটি সবে শুরু। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে একটি দল ভেনেজুয়েলা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত হয়েছে। মার্কো রুবিও তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। মার্কিন বাহিনী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা দেবে। সাধারণ নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শত শত রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে। তাদের ভাগ্য গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত: ভেনেজুয়েলার হাত ধরে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও মার্কিন অভিযান সম্ভব। যা ট্রাম্প স্পষ্ট এরিমধ্যে করেছেন। তিনি কলম্বিয়া ও কিউবার মতো দেশগুলোর নেতাদেরও সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার সম্পর্কত তৈরী না করলে একই ফলাফল ভোগ করতে হবে।
বেইজিং মস্কো ও ইরানের জন্য বার্তা?
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা শুধু কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বিরোধী সরকারকে সতর্ক করার জন্য নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বৈশ্বিক স্তরের প্রতিরোধ বার্তা। এই বার্তা আসলে বেইজিং ও মস্কোর জন্য। যার অর্থ হলো ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বড় কোন সংঘর্ষ বা ব্যাপক কোন রক্তপাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। তাই প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ইরানকেও একটি বার্তা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র যে রুশ প্রযুক্তি ও কৌশলে স্থাপিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিতে পারে এটি সেই প্রমাণ তৈরী করেছে।
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের মতোই। তবে ইরানের বেলায় যুক্তরাষ্ট্রের একই রকম অভিপ্রায় নেই।
নবোদয়/ জেডআরসি/ ০৫ জানুয়ারি ২০২৬